আমার বয়স যখন নয় বছর আমি প্রথমবারের মত গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পে যাই। এবং আমার মা আমাকে একটি ব্যাগ গুছিয়ে দেন বইয়ে ভরা, যা আমার কাছে মনে হয়েছিল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক একটা বিষয়। কারণ আমার পরিবারে বইপড়া ছিল অন্যতম দলীয় কাজ। এটি আপনার কাছে সামাজিকতা বিরোধী কিছু মনে হতে পারে, কিন্তু আমাদের জন্য এটা ছিল সামাজিক হবার ভিন্ন এক পদ্ধতি। আপনার আছে আপনার পরিবারের উষ্ণতা যারা আপনার ঠিক পাশেই বসে আছে, কিন্তু পাশাপাশি আপনি স্বাধীন আপনার ভেতরকার দুঃসাহসিক অভিযানের জগতে ঘুড়ে বেড়ানোর জন্য। এবং আমার এই ধারণা ছিল যে ক্যাম্প এমন কিছু একটা হবে, এর থেকেও ভাল কিছু। (হাসি) আমার কল্পনা ছিল ১০ জন বালিকা একটি কেবিনে বসে আছে আরামে বই পড়ছে একই রকম রাতের পোশাক গায়ে।
ক্যাম্প ছিল অনেকটা মদ ছাড়া মদ খাবার উৎসব। এবং প্রথম দিনেই আমাদের মন্ত্রণাদাত্রী আমাদের সবাইকে একসাথে করলেন। শেখালেন একটি উল্লাস ধ্বনি এবং তিনি বললেন আমরা সেই গ্রীষ্মের বাকি দিনগুলোতে প্রতিদিন তা করবো ক্যাম্পের মনোবল চাঙ্গা রাখার জন্য। এবং সেটা ছিল অনেকটা এরকমঃ "আর-ও-ডাব্লিউ-ডি-আই-ই, এইভাবে আমরা রাউডি বানান করি। রাউডি, রাউডি, চল রাউডি (উচ্ছৃংখল) হই।" ইয়েহ। কিন্তু আমি কিছুতেই বুঝে উঠতে পারতাম না কেন আমাদের এত উচ্ছৃংখল হতে হত, অথবা কেন আমাদের এই শব্দটি ভুলভাবে বানান করতে হত। (হাসি) কিন্তু আমি উল্লাস প্রকাশ করলাম। আমি উল্লাস প্রকাশ করলাম আর সবার সাথে। আমি আমার সর্বোত্তম চেষ্টা করলাম। এবং আমি অপেক্ষা করতাম সেই সময়ের জন্য যখন আমি কোলাহলের বাইরে যেতে পারি এবং আমার বই পড়তে পারি
কিন্তু প্রথমবারের মত আমি যখন আমার ব্যাগ থেকে বই বের করলাম, বাঙ্কের সবচেয়ে চটপটে মেয়েটি আমার কাছে এলো এবং জিজ্ঞেস করলো, "তুমি এরকম শান্ত ভাব দেখাচ্ছো কেন?" শান্ত, অবশ্য, সম্পূর্ণ বিপরীত আর-ও-ডাব্লিউ-ডি-আই-ই (উচ্ছৃংখল) এর। এবং আমি যখন এটা আবার দ্বিতীয়বার চেষ্টা করলাম, মন্ত্রণাদাতা আমার কাছে এলেন চেহারায় এক চিন্তিত অভিব্যক্তি নিয়ে এবং তিনি আমাকে বারবার ক্যাম্পের প্রাণচঞ্চলতা সম্পর্কে বোঝালেন এবং বললেন আমরা সকলেই যেন অনেক পরিশ্রম করি বহির্মুখী হবার জন্য।
এবং তাই আমি আমার বইগুলো সরিয়ে রাখলাম, আমার ব্যাগের ভিতরে, এবং আমার বিছানার নিচে, এবং তারা সেখানেই থাকলো গ্রীষ্মের বাকি দিনগুলোতে। এবং আমি এই কারণে কিছুটা অপরাধবোধ অনুভব করলাম। আমার মনে হল বইগুলোর কোনভাবে আমাকে দরকার ছিল, এবং তারা আমাকে ডাকছে এবং আমি তাদেরকে পরিত্যাগ করেছি। কিন্তু আমি তাদের পরিত্যাগ করলাম এবং আমি গ্রীষ্মের শেষে বাড়িতে পরিবারের কাছে ফেরার আগ পর্যন্ত ব্যাগ খুললাম না।
এখন, আমি গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পের একটি গল্প বলবো। আমি এরকম আরো ৫০টি গল্প বলতে পারতাম- যতবার আমি এই বার্তা পেয়েছি যে কোনভাবে আমার শান্ত এবং অন্তর্মুখী থাকাটা প্রয়োজনের দিক থেকে ঠিক পন্থা ছিল না, এবং আমার বহির্মুখী হিসেবে পাশ করার জন্য আরও চেষ্টা করা দরকার। আমি সবসময় ভিতরে ভিতরে অনুভব করতাম যে এটা ভুল এবং অন্তর্মুখীরা তাদের মত করে যথেষ্ট অসাধারণ। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে আমি এই অনুভূতিকে নাকচ করে এসেছি এবং আমি একজন ওয়াল স্ট্রীট আইনজীবি হলাম, এতকিছু থাকতে, একজন লেখিকা হওয়ার পরিবর্তে- যা আমি সব সময় হতে চেয়েছিলাম আংশিক কারণ ছিল যে আমি নিজের কাছে নিজেকে প্রমাণ করতে চেয়েছিলাম যে আমি সাহসী ও দৃঢ়প্রত্যয়ীও হতে পারি। এবং আমি সবসময় জনবহুল পানশালাগুলোতে যেতাম যখন আমি সত্যিই চাইতাম আমার বন্ধুদের সাথে প্রীতিভোজে অংশ নিতে। এবং নিজেকে অস্বীকার করে এসব সিদ্ধান্ত নিতাম এতটাই আত্মমগ্নভাবে যে, আমি নিজেই বুঝতাম না আমি এই সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছি।
এখন, অধিকাংশ অন্তর্মুখী মানুষ এরকম করে থাকে, এবং এটা নিশ্চিতভাবে আমাদের ক্ষতি, কিন্তু এটা আমাদের সহকর্মীদেরও ক্ষতি, এবং আমাদের সমাজের ক্ষতি। একটু সাড়ম্বর শোনালেও, এটা বিশ্বের ক্ষতি। কারণ যখন সৃজনশীলতা এবং নেতৃত্বের প্রশ্ন আসে, তখন আমাদের অন্তর্মুখীদের যে কাজে তারা সেরা তার জন্য দরকার। জনসংখ্যার অর্ধেক থেকে এক তৃতীয়াংশ অন্তর্মুখী- অর্ধেক থেকে তৃতীয়াংশ। সুতরাং তার অর্থ আপনার পরিচিত প্রতি দু'জন বা তিনজনের একজন। সুতরাং আপনি নিজেও যদি অন্তর্মুখী হয়ে থাকেন, আমি বলছি আপনার সহকর্মী এবং আপনার স্বামী বা স্ত্রী ও সন্তান এবং যারা এই মুহূর্তে ঠিক আপনার পাশে বসে আছে- প্রত্যেকেই এই পক্ষপাতের স্বীকার যা আমাদের সমাজে অনেক গভীর এবং বাস্তব। আমরা সকলেই অনেক অল্প বয়স থেকে তা অন্তরীণ করে রাখি। আমরা যা করছি তার কোন ভাষা ছাড়াই।
এখন এই পক্ষপাতকে ঠিকভাবে দেখতে হলে আমাদের বোঝা দরকার অন্তর্মুখিতা কি। এটা লাজুক স্বভাব থেকে ভিন্ন। লাজুক হওয়ার অর্থ সামাজিক বিবেচনাকে ভয় করা। অন্তর্মুখিতা অন্যদিকে অনেকটা, আপনি কিভাবে উত্তেজনায় সাড়া দেন, যার মধ্যে সামাজিক উত্তেজনাও রয়েছে। এভাবে বহির্মুখীরা কামনা করে বিপুল পরিমাণ উত্তেজনা, যেখানে অন্তর্মুখীরা অনুভব করে তারা সবচেয়ে জীবন্ত, সবচেয়ে বেশি চালিত এবং সবচেয়ে বেশী সক্ষম যখন তারা শান্ত পরিবেশে থাকে। এসব জিনিস আবার সবসময় অনন্যসাপেক্ষ নয়- কিন্তু অধিকাংশ সময়। সুতরাং চাবিকাঠি হচ্ছে আমাদের প্রতিভাকে সর্বোচ্চ করে তোলা আমাদের নিজেদেরকে আমাদের নিজেদের জন্য সঠিক উদ্দীপনার জগতে মেলে ধরা।
কিন্তু এখন এখানেই পক্ষপাত এসে পড়ে। আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো, আমাদের স্কুলগুলো এবং আমাদের কর্মক্ষেত্র, অধিকাংশ নকশা করা হয়েছে বহির্মুখীদের জন্য, এবং বহির্মুখীদের অনেক উদ্দীপনা দরকার। এবং বর্তমানে আমাদের এই বিশ্বাস ব্যবস্থা রয়েছে যে, যাকে আমি বলি 'নতুন দলগতচিন্তা', যা হচ্ছে-সকল সৃজনশীলতা এবং উৎপাদনশীলতা আসে অদ্ভূতভাবে দলগত প্রচেষ্টায়।
সুতরাং আপনি যদি এখনকার নমুনা শ্রেণিকক্ষের কথা চিন্তা করেনঃ আমি যখন স্কুলে যেতাম, আমরা সারি করে বসতাম। আমরা সারি করে এই ধরনের ডেস্কে বসতাম, এবং আমরা আমাদের কাজগুলো অনেকটা স্বাধীনভাবেই করতাম। কিন্তু ইদানীং, আদর্শ শ্রেণীকক্ষে কতগুলো ডেস্ক আছে- চার অথবা পাঁচ অথবা ছয় অথবা সাতটি বাচ্চা মুখোমুখি বসা। এবং বাচ্চারা অগণিত দলীয় কাজে নিয়োজিত আছে। এমনকি গণিত এবং সৃজনশীল লেখার মত বিষয়ে, যা আপনি মনে করতে পারেন নির্ভর করে একক চিন্তারাজির উপর, বাচ্চাদের কাছে থেকে এখন আশা করা হয় তারা কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করবে। এবং সেই সব বাচ্চাদের মধ্যে যারা পছন্দ করে নিজেদের মত চলতে বা কাজ করতে, তাদেরকে দেখা হয় বাউণ্ডুলে হিসেবে অথবা এরচেয়ে খারাপ, সমস্যা হিসেবে। এবং অধিকাংশ শিক্ষক এই বিশ্বাসে প্রতিবেদন করেন যে আদর্শ ছাত্র মাত্রই বহির্মুখী অন্তর্মুখীর অপররূপ, যদিও অন্তর্মুখীরা অন্যদের চেয়ে ভালো গ্রেড পেয়ে থাকে এবং তারা অধিকতর জ্ঞানী, গবেষণা অনুযায়ী। (হাসি)
হ্যাঁ, একই কথা সত্য আমাদের কর্মক্ষেত্রের জন্য। এখন, আমাদের অনেকেই পরিকল্পিত খোলা অফিসে কাজ করে, দেয়াল ছাড়া, যেখানে আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের সহকর্মীদের কথা এবং নজরের সম্মুখীন হচ্ছি। এবং যখন নেতৃত্বের প্রসঙ্গে আসে, অন্তর্মুখীদের নিয়মিত বাদ দেওয়া হচ্ছে নেতৃত্বের পদে, যদিও অন্তর্মুখীরা অনেক সতর্ক হয়, বড় ধরনের ঝুঁকি গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকে- যা আমরা সকলেই ইদানীংকালে সুনজরে দেখি। এবং অ্যাডাম গ্রান্ট, হোয়ারটন স্কুলে একটি আকর্ষণীয় গবেষণায় পেয়েছেন যে অন্তর্মুখী নেতারা বহির্মুখীদের চেয়ে অধিক ভাল ফলাফল সরবরাহ করে, কারণ তারা যখন অতি-সক্রিয় কর্মচারীদের ব্যবস্থাপনা করে, তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই কর্মচারীদের তাদের নিজেদের চিন্তা মত কাজ করতে দেন, অন্যদিকে একজন বহির্মুখী, অন্ধিকাংশ ক্ষেত্রে, নির্বোধের মত, সবকিছু নিয়ে উত্তেজিত হয়ে পড়েন যে তারা তাদের নিজেদের সীলমোহর লাগিয়ে দেন সবকিছুর ওপর এবং অন্যদের চিন্তা-ভাবনা সেক্ষেত্রে সহজে উঠে আসবে না।
এখন এক্ষেত্রে বলতে হয়,, আমাদের ইতিহাস রূপান্তরে ভূমিকা রাখা নেতারা অন্তর্মুখী। আমি আপনাদের কিছু উদাহরণ দিচ্ছি। এলেনর রুজভেল্ট, রোজা পার্ক, গান্ধী- এরা সকলেই নিজেদের বর্ণনা করেছেন শান্ত এবং নরমসুরে কথা বলেন এমন মানুষ হিসেবে এবং এমনকি লাজুক হিসেবে। এবং তারা সকলেই লোকচক্ষুর কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন, যদিও তাদের শরীরের প্রতিটি অস্থি তাদের বলেছে তা না করতে। এবং দেখা যাচ্ছে এর নিজস্ব কিছু বিশেষ ক্ষমতা আছে, কারণ মানুষ এটা অনুভব করে এই মানুষগুলো হাল ধরে ছিলেন, এ কারণে নয় যে তারা অন্যদের দিক নির্দেশনা দিতে পছন্দ করতেন এবং এ কারণে নয় যে অন্যরা যেন তাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকে; তারা সেখানে ছিলেন কারণ তাদের কোন উপায় ছিল না, কারণ তাদের নিজেদের যা ভালো মনে হয়েছে তাই দিয়ে তারা চালিত হয়েছিলেন।
এখন এই মুহূর্তে আমি মনে করি এটা বলা গুরুত্বপূর্ণ যে, আমি আসলে বহির্মুখীদের ভালবাসি। আমি সবসময় বলতে পছন্দ করি আমার কিছু প্রিয় বন্ধু বর্হিমুখী, আমার স্বামীসহ। এবং অবশ্যই আমরা বিভিন্ন সময়ে অন্তর্মুখী/বহির্মুখী বর্ণালীতে পড়ি। এমনকি সাইকোলজিস্ট কার্ল ইয়াং যিনি প্রথম এই পরিভাষা প্রচলন করেন, বলেন যে বিশুদ্ধ অন্তর্মুখী বলে কিছু নেই অথবা বিশুদ্ধ বহির্মুখী। তিনি বলেছেন যে এমন মানুষ কেবলমাত্র পাগলা-গারদেই থাকতে পারে, যদি সে আসলেই থেকে থাকে। এবং কিছু মানুষ ঠিক মাঝখানে পড়ে অন্তর্মুখী/বহির্মুখী বর্ণালীতে, এবং আমরা এদেরকে বলি এম্বিভার্টস। এবং আমি প্রায়ই মনে করি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সবকিছু তাদেরই আছে। কিন্তু আমাদের অনেকেই নিজেদেরকে চিহ্নিত করতে পারি যেকোন এক ধরনের হিসেবে।
এবং আমি যা বলছি তা হচ্ছে সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে আমাদের আরও ভাল ভারসাম্য দরকার। আমাদের আরও ভারসাম্য দরকার এই দুই ধরনের মাঝে। বিশেষত এটি গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীলতা এবং উৎপাদনশীলতার প্রশ্নে, কারণ মনোবিদরা সৃজনশীল মানুষদের জীবনের দিকে আলোকপাত করে যা পেয়েছেন তা হচ্ছে যে সব মানুষ ভাবনা চিন্তা বিনিময়ে ভালো এবং চিন্তাকে অগ্রসর করাতে পারে্ন, কিন্তু যাদের মধ্যে গুরুতর পর্যায়ের অন্তর্মুখী বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
এবং এর কারণ নির্জনতা সৃজনশীলতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাই ডারউইন, দীর্ঘক্ষণ হাঁটতেন বনের মধ্য দিয়ে এবং নৈশভোজের আমন্ত্রণ জোরালোভাবে প্রত্যাখান করতেন। থিওডোর গিসেল, যিনি ডক্টর সিউস নামে পরিচিত, তিনি তার অনেক বিস্ময়কর আবিস্কারের স্বপ্ন দেখেছেন তার নির্জন বেল টাওয়ারের অফিসে বসে যা কিনা তার বাড়ির পেছনে ক্যালিফোর্নিয়ার লা হোল্লাতে অবস্থিত। এবং তিনি আসলে ভীত ছিলেন বাচ্চাদের সাথে পরিচিত হবার ক্ষেত্রে যারা তার বই পড়তো এই ভয়ে যে বাচ্চারা আশা করতো তিনি সান্টা ক্লজের মত হাস্যোজ্জ্বল কেউ হবেন এবং তারা হতাশ হবে তার এরকম চাপা স্বভাব দেখে। স্টিভ ওয়াজনিয়াক প্রথম অ্যাপল কম্পিউটার আবিষ্কার করেন একা নিজের জায়গায় বসে থেকে হিউলেট-প্যাকার্ড অফিসে যেখানে তিনি সেসময়ে কর্মরত ছিলেন। এবং তিনি বলেন যে তিনি এই বিষয়ে দক্ষ হয়ে উঠতেন না যদি না তিনি যখন বেড়ে উঠছিলেন তখন বাড়ি না ছেড়ে যাওয়ার মত অন্তর্মুখী হতেন।
এখন অবশ্য, এর অর্থ এই নয় যে আমরা সহযোগিতা করা বন্ধ করে দিবো- এবং এক্ষত্রে স্টিভ ওয়াজনিয়াক, স্টিভ জবসের সাথে একত্র হয়েছিলেন অ্যাপল কম্পিউটার চালু করবার জন্য- কিন্তু এর অর্থ এই যে নি:সঙ্গতা এক্ষেত্রে একটি বিষয় এবং কিছু মানুষের জন্য তা হচ্ছে তাদের শ্বাসপ্রশ্বাসের বাতাস। এবং আমরা শতকের পর শতক ধরে নি:সঙ্গতার সীমাতিক্রমী ক্ষমতা সম্পর্কে জানি। শুধু সাম্প্রতিক সময়ে আমরা অদ্ভূতভাবে তা ভুলতে শুরু করেছি। আপনি যদি পৃথিবীর প্রধান ধর্মগুলোর দিকে তাকান, আপনি পাবেন অন্বেষণকারী- মুসা, যীশু, বুদ্ধ , মুহাম্মদ- অন্বেষণকারী যারা নিজেদের মত করে পথ চলা শুরু করেছিলেন একা বন্ধুর পথে যেখানে তারা গভীর কিছু উন্মোচন ও আত্মোপলব্ধি করেছিলেন যা তারা পরবর্তীতে লোকালয়ে নিয়ে এসেছেন। সুতরাং বন্ধুর পথে যাওয়া ছাড়া কোন উন্মোচন সম্ভব নয়।
যদিও কোন চমক নেই তবুও আপনি যদি সমসাময়িক মানসিকতার দিকে একটু খেয়াল করেন। দেখা যাবে যে, এমনকি আমরা একদল লোকের সাথে থাকতে পারবো না যদি না আমরা সহজাতভাবে তাদের মতামত প্রতিফলিত বা নকল না করি। এমনকি ব্যক্তিগত এবং অভ্যন্তরীণ ব্যাপারেও যেমন কে আপনাকে আকর্ষণ করে, আপনি আপনার আশেপাশের মানুষের বিশ্বাস অনুকরণ করা শুরু করবেন এমনকি আপনি বুঝতেও পারবেন না যে আপনি তা করছেন।
এবং দলগুলো চমৎকারভাবে দলে থাকা প্রভাবশালী এবং মহিমান্বিত ব্যক্তিদের মতাদর্শ অনুসরণ করে, যদিও ভালো বুদ্ধি এবং ভালো বক্তার মধ্যে সংযোগ খুব কমই থাকে, তাদের সম্পর্ক থাকে শূন্যের কোঠায়। মানে হচ্ছে শূন্য। সুতরাং... (হাসি) আপনি হয়তো সেই লোকটিকে অনুসরণ করছেন যার কাছে শ্রেষ্ঠ ধারণাগুলো আছে আবার হয়তো বা না। এবং আপনি কি সত্যি তা সুযোগের হাতে ছেড়ে দিতে চাচ্ছেন? সবার জন্য এর চেয়ে নিজেরদের স্ব স্ব পথ ধরা, দলীয় শক্তির বিকৃতি থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের আপন ধারণার সৃষ্টি করা, এবং তারপর একাত্ম হয়ে দল গঠন করা, যাতে তারা একটি সুসংগঠিত পরিবেশের মধ্য দিয়ে যেতে পারে এবং তারপর সেখান থেকে নিয়ে চলা।
এখন এর সবকিছুই যদি সত্য হয়, তাহলে আমরা কোথায় ভীষণভাবে ভুল করছি? আমরা কেন এইভাবে আমাদের স্কুলগুলো এবং অফিসগুলো পরিচালনা করছি? এবং কেন আমরা এসব অন্তর্মুখীদের অপরাধী বোধ করাচ্ছি যখন তারা চাচ্ছে কিছু সময়ের জন্য তাদের মত থাকতে? এর একটি উত্তর আমাদের সংস্কৃতির গভীরে রয়েছে। পশ্চিমা সমাজগুলো, বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রে, কাজের লোকদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে সবর্দাই চিন্তাশীল লোকদের তুলনায় এবং 'চিন্তাশীল' লোকদের তুলনায়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের শুরুর দিনগুলোতে, আমাদের যাপিত জীবনকে ইতিহাসবিদরা বলেন "নৈতিক শক্তির সংস্কৃতি", যেখানে আমরা তখনো মানুষকে মূল্য দিতাম তাদের ভিতরের গুণাবলীর জন্য এবং তাদের নীতিঘটিত সততার জন্য। এবং আপনি যদি সে যুগের স্ব-সহায়ক বইগুলোর দিকে লক্ষ্য করেন, তাঁদের সবগুলোর শিরোনাম ছিল অনেকটা এরকম "চরিত্র, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বস্তু" এবং সেসব বইতে আদর্শ হিসেবে ছিলেন আব্রাহাম লিঙ্কন যার নম্র এবং বিনয়ী হিসেবে সুখ্যাতি ছিল। রালফ ওয়াল্ডো এমারসন তাকে "উর্ধ্বতন দ্বারা অসন্তুষ্ট না হওয়া এক ব্যক্তি" হিসেবে অভিহিত করেন।
কিন্তু এরপর আমরা বিংশ শতকে এসে পড়লাম এবং নতুন এক সংস্কৃতিতে প্রবেশ করলাম যাকে ইতিহাসবিদরা ব্যক্তিত্বের সংস্কৃতি বলে থাকেন। যা ঘটেছে তা হচ্ছে আমরা একটি কৃষিজীবি অর্থনীতি থেকে বড় বড় বাণিজ্যের এক বিশ্বে বিকাশ লাভ করেছি। এবং হঠাৎ করেই মানুষ ছোট শহরগুলো থেকে নগরীতে চলে আসছে। এবং আজীবনের পরিচিত মানুষগুলোর পাশে কাজ করার পরিবর্তে এখন তাদের নিজেদেরকে প্রমাণ করতে হচ্ছে অপরিচিত মানুষের মাঝে। সুতরাং, বোঝাই যাচ্ছে, ব্যক্তিগত মাধুর্য ও আকর্ষণ এবং উৎসাহ সঞ্চারের মত গুণ হঠাৎ করেই খুব গুরুত্বপুর্ণ হয়ে উঠেছে। এবং নিশ্চিতভাবেই, স্ব-সহায়ক বইগুলো তাদের প্রয়োজন মেটাতে পরিবর্তিত হয়েছে এবং তারা এরকম নাম ধারণ করে " কিভাবে বন্ধু জিতবেন এবং মানুষকে প্রভাবিত করবেন।" এবং তারা তাদের আদর্শ হিসেবে বড় বিক্রয়কুশলীদের প্রচার করে। সুতরাং এই হচ্ছে আজকের বিশ্ব যেখানে আমরা বাস করছি। এটাই হচ্ছে আমাদের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার।
এখন এসব কথা বলার অর্থ এই না যে সামাজিক দক্ষতা গুরুত্বহীন, এবং আমি দলগত প্রচেষ্টাকে সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত করার কথাও বলছি না। একই ধর্মগুলো যা তাদের প্রিয়পাত্রদের নির্জন পাহাড়ের চূড়ায় পাঠায় তারা আরও শেখায় ভালোবাসতে এবং বিশ্বাস করতে। এবং আমরা বিজ্ঞান এবং অর্থনীতির মত বিষয়ে আজ যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি তা এতই বিশাল এবং জটিল যে আমাদের অনেক লোককে একসাথে দরকার সমাধানের জন্য এক সাথে কাজ করতে। কিন্তু আমি বলছি যে যত বেশি স্বাধীনতা আমরা অন্তর্মুখীদের দিবো, তত বেশি তারা তাদের অনন্য আপন সমাধান নিয়ে হাজির হবে এসব সমস্যা সমাধানে।
সুতরাং এখন আমি আপনাদের দেখাতে চাই আমার ব্যাগে আজ কি আছে। অনুমান করুন তো? বই। আমার সাথে এক ব্যাগ ভর্তি বই আছে। এখানে মারগারেট এটউডের "বিড়ালের চোখ" এই যে এখানে মিলান কুন্ডেরার একটি উপন্যাস। এবং এখানে "দ্বিধায় থাকায় মানুষদের জন্য নির্দেশনা" মাইমোনিডস-এর। কিন্তু এই বইগুলো আসলে আমার বই না। আমি এইগুলো আমার সাথে এনেছি কারণ এগুলো আমার পিতামহের প্রিয় লেখকেরা লিখেছেন।
আমার পিতামহ একজন ইহুদি ধর্মযাজক ছিলেন এবং বিপত্নীক ছিলেন যে একাকী ব্রুকলিনের একটি ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্টে বাস করতেন এবং আমি যখন বেড়ে উঠছিলাম, তখন আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল সেটি। এর আংশিক কারণ ছিল জায়গাটি স্নিগ্ধ এবং নির্মল অনুভূতি দিয়ে পরিপূর্ণ ছিল এবং কিছুটা তা বই দিয়ে ভরা ছিল বলে। অ্যাপার্টমেন্টের প্রতিটা টেবিল, প্রতিটা চেয়ার তাদের আসল কর্ম পরিহার করেছিল বইয়ের স্তুপকে দোলানোর কাজে জায়গা দেবার জন্যে। আমার পরিবারের বাকী সবার মতো আমার পিতামহ পৃথিবীতে সবচেয়ে প্রিয় কাজ ছিল বই পড়া।
এছাড়াও তিনি তার গির্জার সমাবেশ ভালবাসতেন, এবং আপনি এটা বুঝতে পারতেন তার অভিভাষণ শুনে ৬২ বছরের প্রতি সপ্তাহে যতদিন তিনি র্যাবাই (ইহুদি ধর্মযাজক) ছিলেন। সে প্রতি সপ্তাহের পড়া বইগুলো থেকে বিশেষ অংশ চয়ন করতেন এবং সে এই অংশগুলোর সাথে প্রাচীন এবং মানবিক চিন্তার সমন্বয় ঘটাতেন। এবং সব জায়গা থেকে মানুষ আসতো তার কথা শোনার জন্যে।
কিন্তু আমার পিতামহের একটি বিষয় ছিল। তার আনুষ্ঠানিক ভূমিকার পিছনে, তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী এবং অন্তর্মুখী- এতটাই যে তিনি যখন অভিভাষণ দিতেন তার অন্যের চোখে তাকিয়ে তা বলতে সমস্যা হত। ঠিক একই সমাবেশের সামনে যেখানে তিনি ৬২ বছর ধরে কথা বলে গেছেন। এমনকি বেদির বাইরে আপনি যদি তাকে কথা বলার জন্য ডাকতেন তিনি প্রায়ই অপরিপক্কের মত কথা বলা শেষ করতেন এই ভয়ে যে তিনি হয়তো আপনার অনেক সময় নিয়ে নিচ্ছেন। কিন্তু তিনি যখন চুরানব্বই বছর বয়সে মারা গেলেন, পুলিশকে তার বাড়ির আশেপাশের রাস্তা বন্ধ করে দিতে হল মানুষের ঢলকে জায়গা করে দেবার জন্যে যারা এসেছিল তাদের শোক প্রকাশ করতে। তাই ইদানীং আমি আমার পিতামহের উদাহরণ থেকে শিক্ষা নেবার চেষ্টা করছি নিজের মত করে।
আমি কিছুকাল আগে অন্তর্মুখিতা নিয়ে একটি বই প্রকাশ করেছি, এবং তা লিখতে আমার সময় লেগেছে সাতটি বছর। এবং আমার জন্যে, এই সাতটি বছর ছিল পরম সুখের, কারণ আমি এই সময়ে পড়ছিলাম, লিখছিলাম, আমি চিন্তা করছিলাম, গবেষণা করছিলাম। এটা ছিল আমার নিজের মত একাকী পিতামহের লাইব্রেরিতে তার মত সময় কাটানো। কিন্তু এখন হঠাৎ করেই আমার কাজ হয়ে গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন, এবং আমার কাজ হচ্ছে এখানে এই বিষয়ে কথা বলা, অন্তর্মুখিতা নিয়ে কথা বলা। (হাসি) এবং যা ছিল আমার জন্য অনেক কঠিন, কারণ আমি যতটা সম্মানিত বোধ করছি এই মুহূর্তে আপনাদের মাঝে এসে, এটা আমার স্বাভাবিক সামাজিক পরিবেশ না।
সুতরাং আমি প্রস্তুত হয়েছি এইসব মুহূর্তের জন্যে যতটা আমার পক্ষে সম্ভব হয়। আমি গত বছর জনসম্মুখে কথা বলার অনুশীলন করেছি যে সুযোগই আমি পেয়েছি না কেন। এবং আমি একে বলি, "বিপজ্জনকভাবে কথা বলার বছর।" (হাসি) এবং তা আসলে অনেক সাহায্য করে। কিন্তু আমি আপনাদের বলব, তারচেয়েও বেশি সাহায্য করে আমার ইন্দ্রিয়, আমার বিশ্বাস, আমার আশা যে যখন আমাদের আচরণের প্রসঙ্গ আসে অন্তর্মুখিতা, শান্ত, নি:সঙ্গতার মত বিষয়ে আমরা সত্যিকার অর্থেই প্রস্তুত হই নাটকীয় পরিবর্তনের। আমি বোঝাচ্ছি, আমাদের। তাই এখন আমি আপনাদের রেখে যাচ্ছি কাজ করবার তিনটি আহ্বান জানিয়ে তাদের উদ্দেশ্য যারা এই দর্শন গ্রহণ করেছেন।
এক নম্বরঃ সারাক্ষণের এই দলীয় কাজ করবার পাগলামি বন্ধ করুন। বন্ধ করুন। (হাসি) ধন্যবাদ। (করতালি) এবং আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই যা আমি বলছি, কারণ আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি আমাদের অফিসগুলোর উচিত উৎসাহিত করা অপরিকল্পিত, আড্ডাবাজি ধরনের সংযোগ- আপনি জানেন, যে ধরনের যেখানে মানুষ একসাথে হয় এবং অপ্রত্যাশিতভাবে বা দৈবভাবে চিন্তা বিনিময় করে। এটি চমৎকার। এটি অন্তর্মুখী এবং বর্হিমুখী উভয়ের জন্যে চমৎকার। কিন্তু আমাদের প্রয়োজন আরো অনেক গোপনীয়তা এবং আরও অনেক স্বাধীনতা এবং কাজের ক্ষেত্রে আরও অনেক স্বতন্ত্রতা। স্কুলেও একই জিনিস। আমাদের দরকার বাচ্চাদের অবশ্যই শেখানো একসাথে কাজ করা, কিন্তু আমাদের আরও শেখানো দরকার কিভাবে তারা নিজেরা স্বতন্ত্রভাবে কাজ করতে পারে। এটা বিশেষভাবে দরকার বর্হিমুখী বাচ্চাদের জন্যে। তাদের এককভাবে কাজ করা দরকার কারণ এককভাবে কাজ করতে গেলেই ভিতর থেকে গভীর চেতনা আসে।
আচ্ছা। দুই নাম্বারঃ বন্যতার বা আদিমতার কাছে যাও। বুদ্ধের মত হও, নিজের মত করে উন্মোচন করো। আমি বলছি না যে আমাদের সবার এখনই চলে যেতে হবে এবং জঙ্গলে নিজেদের কেবিন বানাতে হবে এবং আর কখনো নিজেদের সাথে কথা বলব না, কিন্তু আমি বলছি যে আমরা নিজেদের বিচ্ছিন্ন করতে পারি এবং নিজদের মাথার ভিতরে যেতে পারি কিছুটা বেশি সময়ের জন্যে।
তিন নম্বরঃ নিজের ব্যাগের ভিতরে একটি ভালভাবে দৃষ্টি দেন এবং কেন আপনি তা সেখানে রেখেছেন। সুতরাং বহির্মুখীরা, আপনাদের ব্যাগগুলোও হয়তো বই দিয়ে ভরা, অথবা তারা স্যাম্পেনের গ্লাস দিয়ে ভরা অথবা স্কাইডাইভিং এর সরঞ্জাম দিয়ে। তা যাই হোক না কেন, আমি আশা করি আপনি যখনই সুযোগ পাবেন তা বের বের করবেন এবং আমাদেরকে অভিভুত করবেন আপনার শক্তি এবং প্রফুল্লতা দিয়ে। কিন্তু অন্তর্মুখীদের ক্ষেত্রে, আপনি আপনার মতো থাকায়, সম্ভবত আপনার প্রেরণা রয়েছে আপনার ব্যাগের ভেতরের জিনিস রক্ষা করার ক্ষেত্রে। এবং তা ঠিক আছে। কিন্তু মাঝে মাঝে,একটু মাঝে মাঝে আমি আশা করি অন্যদের দেখানোর জন্যে আপনারা আপনাদের ব্যাগগুলো খুলবেন, কারণ বিশ্বকে আপনাদের দরকার এবং এর দরকার আপনার যা বহন করছেন।
সুতরাং আমি মঙ্গল কামনা করি আপনাদের সকল সম্ভাব্য যাত্রায় এবং নরম সুরে কথা বলার সাহসের ক্ষেত্রে।
You can share this video by copying this HTML to your clipboard and pasting into your blog or web page. This video will play with subtitles.
You either have JavaScript turned off or have an old version of the Adobe Flash Player. To view this rating widget you
need to get the latest Flash player.
If your browser allows only "trusted sites" to execute Javascript, you should add the "googleapis.com" domain to your whitelist to allow our Flash detection to work properly.
Got an idea, question, or debate inspired by this talk? Start a TED Conversation.
যে সংস্কৃতিতে সামাজিক এবং বর্হিমুখী হওয়াকে সবার উপরে পুরস্কৃত করা হয়, সেখানে অন্তর্মুখী হওয়া কঠিন হতে পারে, এমনকি কখনও লজ্জার। কিন্তু সুসান কেইন এই আবেগপূর্ণ বক্তৃতায় যুক্তি তুলে ধরেন যে, অন্তর্মুখীরা পৃথিবীতে অসাধারণ প্রতিভা ও সামর্থ্য নিয়ে আসে এবং তা উৎসাহিত ও উদযাপিত হওয়া উচিত।
Our world prizes extroverts -- but Susan Cain makes a case for the quiet and contemplative. Full bio »
Translated into Bengali by Palash Sanyal
Reviewed by Rezwan I
Comments? Please email the translators above.
20:19 Posted: Dec 2010
Views 9,437,204 | Comments 1244
19:15 Posted: Feb 2007
Views 818,255 | Comments 155
13:55 Posted: Jul 2011
Views 1,212,715 | Comments 489
Just follow the guidelines outlined under our Creative Commons license.
This comment will be attributed to . Not ? Sign Out.