এখন আমি যা করতে যাচ্ছি তা হচ্ছে আপনাদের সামনে ভারতের সর্বশেষ নাটকটি উপস্থাপন করবো-- হয়তো পৃথিবীর- সবচেয়ে দীর্ঘসময় ধরে চলা ধারাবাহিক , যা হচ্ছে ক্রিকেট। এবং হয়তোবা এটি চলবে আরও বহুকাল ধরে, কারণ এটা আমার মত মানুষকে জীবনধারণে সহায়তা করে। একটি সাধারণ টিভি নাটকে যা থাকে তার সবই এর রয়েছেঃ এর আছে ভালবাসা, আনন্দ, সুখবোধ, দু;খ, কান্না, হাসি, অনেক প্রতারণা, চক্রান্ত। এবং সব ভালো ধারাবাহিকের মত, তা ২০ বছর সামনে চলে যায় যখন দর্শকদের আগ্রহ পরিবর্তন হয়। এবং ঠিক এটাই ক্রিকেট করেছে। তা ২০ বছর সামনে চলে গেছে যা হচ্ছে ২০ ওভারের খেলা। এবং এই বিষয়ে আমি আজকে কথা বলবো, কিভাবে একটি ছোট্ট পরিবর্তন অনেক বড় একটি বিপ্লবের দিকে নিয়ে যায়।
কিন্তু এটা সবসময় এরকম ছিল না। ক্রিকেট সবসময় এরকম গতিময় প্রজন্মের খেলা ছিল না। একটা সময় ছিল যখন আপনি ক্রিকেট খেলতেন, আপনি টেস্ট ম্যাচ খেলতেন কোন সময়সীমা ছাড়া, আপনি খেলে যেতেন যতক্ষণ না খেলা শেষ হতো। এবং ১৯৩৯ এর মার্চে একটি খেলা হয়েছিল যা শুরু হয়েছিল ৩রা মার্চ এবং শেষ হয়েছিল ১৪ই মার্চ। এবং তা শেষ হয়েছিল এই কারণে যে ইংলিশ ক্রিকেটারদের ডারবান থেকে কেপটাউন যেতে হতো যা হচ্ছে ট্রেনে দুই ঘন্টার যাত্রা, ১৭ই মার্চ ছেড়ে যাওয়া জাহাজ ধরার জন্য, কারণ পরের জাহাজের সময় অনেকদিন পর ছিল। সুতরাং, খেলা মাঝখানেই শেষ হয়েছিল। এবং একজন ইংলিশ ব্যাটসম্যান বলেছিল," আপনি জানেন? আর আধা ঘন্টা খেলা হলে আমরা ম্যাচটা জিতে যেতাম।" (হাসি) ১২ দিন খেলার পর আরও আধা ঘন্টা দরকার ছিল। এর মাঝে অবশ্য দুটি রবিবার ছিল এবং রবিবার চার্চে যাবার দিন, সুতরাং রবিবার খেলা হতো না, এবং একদিন বৃষ্টি হয়েছিল, সেদিন তারা সবাই একসাথে বসে আড্ডা দিয়েছিল।
কিন্তু ভারত ক্রিকেটের প্রেমে পড়ার কারণ রয়েছে। কারণ আমাদের জীবনের গতি ক্রিকেটের মত ঠিক একই রকম। (হাসি) মহাভারতও এরকম ছিল, ছিল না? দিনের বেলা যুদ্ধ হত, এরপর সূর্যাস্ত হত, এবং সবাই ঘরে ফিরে যেত। এবং তখন রণকৌশল নিয়ে চিন্তা করা হত, এবং পরের দিন আবার তারা ফেরত আসতো এবং যুদ্ধ করতো এবং আবার ঘরে ফিরে যেত। মহাভারত এবং ক্রিকেটের একমাত্র পার্থক্য এইযে, ক্রিকেটে সবাই বেঁচে থাকে পরের দিন ফিরে আসার জন্য। রাজকুমারেরা খেলার পৃষ্ঠপোষক হত, এই কারণে না যে তারা খেলাটাকে ভালোবাসতো, বরং এই কারণে যে তা ব্রিটিশ শাসকদের প্রতি তাদের অনুরাগ প্রকাশের একটি মাধ্যম ছিল।
কিন্তু আরও একটি কারণ আছে যে কারণে ভারত ক্রিকেটের প্রেমে পড়েছে, যা হচ্ছে, খেলার জন্যে দরকার একটিমাত্র কাঠের টুকরা এবং একটি রাবার বল, এবং যেকোন সংখ্যক মানুষ যে কোন জায়গায় তা খেলতে পারবে। এই যে দেখুনঃ আপনি আবর্জনার মাঝে খেলতে পারবেন কয়েকটি পাথরের সাহায্যে, আপনি একটি ছোট্ট গলিতে খেলতে পারবেন-- আপনি আশেপাশে কোথাও মারতে পারবেন না, কারণ আপনার ব্যাট দেয়ালকে আঘাত করবে, শীতাতপ যন্ত্র আর তার এর দিকে খালি লক্ষ্য রাখবেন। (হাসি) আপনি খেলতে পারবেন গঙ্গার তীরে, সেটা গঙ্গার মতই অপরিষ্কার অনেকদিন ধরে। অথবা অনেকগুলো খেলা একসাথে চলতে পারবে ছোট্ট একটি মাঠে, যদিও আপনি হয়ত জানেন না কোন খেলাটাতে আপনি আসলে আছেন। (হাসি) সুতরাং আপনি দেখতেই পাচ্ছেন, আপনি যেকোন জায়গায় খেলতে পারবেন। কিন্তু আস্তে আস্তে খেলাটা চলতে থাকলো, আপনি জানেন, অবশেষে।
আপনার কাছে সবসময় ৫ দিন থাকে না। সুতরাং আমরা বদলালাম, এবং ৫০ ওভারের ক্রিকেট খেলা শুরু করলাম। এবং এরপর এক বড় দুর্ঘটনা ঘটলো। ভারতীয় ক্রীড়াঙ্গনে আমরা কোনকিছুই ইচ্ছে করে ঘটাই না, দুর্ঘটনা ঘটে এবং মাঝেমাঝে আমরা ঠিক জায়গা মতই ঠিক সময়ে উপস্থিত থাকি। এবং আমরা ১৯৮৩ সালে বিশ্বকাপ জিতলাম। এবং হঠাৎ করেই আমরা ৫০ ওভারের খেলার প্রেমে পড়ে গেলাম, এবং আমরা কার্যত প্রতিদিন তা খেলা শুরু করলাম। ৫০ ওভারের খেলা যেকোন জায়গার চেয়ে বেশি হতে লাগলো।
কিন্তু আরও একটি বড় তারিখ আছে। ১৯৮৩ হচ্ছে যখন আমরা বিশ্বকাপ জিতেছিলাম। ১৯৯১-৯২ সালে আমরা এক অর্থমন্ত্রীকে পেলাম এবং একজন প্রধানমন্ত্রী যারা বিশ্বকে ভারতের দিকে তাকানোর সুযোগ দিতে আগ্রহী ছিলেন, গুপ্ত এবং রহস্যময় এক রাষ্ট্রের তিলক এই সংরক্ষণবাদী দেশটা থেকে ঘোঁচাতে। এবং আমরা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে ভারতে প্রবেশাধিকার দিলাম। আমরা কাস্টমস শুল্ক কমালাম, আমরা আমদানি শুল্ক কমালাম, এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলো এখানে আসতে শুরু করলো, তাদের বহুজাতিক বাজেট নিয়ে, যারা জনপ্রতি আয়ের দিকে নজর দিল, এবং ভারতের সম্ভাবনাসমূহ তাদের মাঝে সারা জাগালো, এবং তারা এমন কোন মাধ্যম খুঁজছিল যা সকল ভারতীয়ের কাছে পৌঁছাতে পারে।
এবং ভারতে এই ধরনের মাধ্যম দুটি রয়েছে - এক বাস্তব, আর একটি লিখিত। লিখিতটা হচ্ছে যা আপনি সিনেমার পর্দায় দেখতে পান, বাস্তবটা হচ্ছে ক্রিকেট। তাই আমার সামনে এই মুহূর্তে বসে থাকা আমার আমরা এক বন্ধু, পেপসি'র রবি ধারিয়াল সিদ্ধান্ত নিল সে এই ক্রিকেটকে পৃথিবীর সবখানে নিয়ে যাবে। এবং পেপসি একটি বড় বিপ্লব ছিল, কারণ তারা ক্রিকেটকে সবজায়গায় নিয়ে যেতে শুরু করলো। এবং ক্রিকেট আরও বড় কিছু হয়ে উঠতে শুরু করলো; ক্রিকেট সম্পদ আনা শুরু করলো। টেলিভিশন ক্রিকেট সম্প্রচার করা শুরু করলো। অনেকদিন ধরে টেলিভিশন বলেছিল, "আমরা ক্রিকেট সম্প্রচার করবো না যদি না আমাদের সম্প্রচারের জন্য অর্থ দেওয়া হয়।" তারপর তারা বললো,'আচ্ছা, পরবর্তী খেলার স্বত্ত্বগুলো ৫৫ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে বিক্রি হয়। তার পরের স্বত্ত্ব বিক্রি হল ৬১২ মিলিয়ন ডলারে।" সুতরাং, এটা অনেকটা বক্ররেখার মত।
এবং তখন আরও একটি বড় দুর্ঘটনা ঘটে আমাদের ক্রিকেটে। ইংল্যাণ্ড ২০ ওভারের ক্রিকেট উদ্ভাবন করলো, এবং বললো," বিশ্বকে অবশ্যই ২০ ওভারের খেলা খেলতে হবে।" যেভাবে ইংল্যাণ্ড ক্রিকেট খেলা উদ্ভাবন করেছিল এবং বাকী বিশ্বকে খেলতে বাধ্য করেছিল। তাদের হয়ে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। (হাসি) তাই ভারতকে টিটোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে হয়েছিল বাধ্য হয়ে। ভারত টি২০ বিশ্বকাপ খেলতে চায়নি। কিন্তু আমরা খেলতে বাধ্য হয়েছিলাম ৮-১ ব্যবধানে। এবং এরপর নাটকীয় কিছু ঘটনা ঘটলো। আমরা ফাইনালে উঠলাম, এবং তারপর সেই মুহূর্তে, যা সবসময় অনন্য এক স্থানে থাকবে, সবার জন্য, এইযে দেখুন।
পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান ফিল্ডারদের পার করার চেষ্টা করছে।
ঘোষকঃ এবং জিসান ধরে ফেলল। ভারত জিতেছে! এক লোমহর্ষক ম্যাচ টিটোয়েন্টি ফাইনাল হিসেবে। ভারত বিশ্বচ্যাম্পিয়ান। (উল্লাস প্রকাশ) ভারত, টিটোয়েন্টি চ্যাম্পিয়ান। এক অসাধারণ খেলা হয়েছিল, এম এস ধোনি বাতাসে ভেসে ধরেছিল। কিন্তু মিসবাহ-উল-হক, অসাধারণ এক খেলোয়াড়। অনেক, অনেক বড় এক সাফল্যঃ ভারত, বিশ্ব টিটুয়েন্টি বিজয়ী।
হার্সা ভোগলেঃ হঠাৎ করেই ভারত যেন ২০ অভার ক্রিকেটের ক্ষমতা উপলব্ধি করতে পারলো। দুর্ঘটনা, অবশ্য এই যে, ব্যাটসম্যান মনে করলো বোলার অনেক জোরে বল করছে। (হাসি) যদি সে জোরে বল করতো, বল সেখানেই যেত যেখানে যাবার কথা তার ছিল, কিন্তু তা গেল না। এবং আমরা হঠাৎ করে আবিষ্কার করলাম যে আমরা এই খেলায় ভাল করতে পারি। এবং এটা আরও যা করেছিল তা হল এটা হঠাৎ করে এই গর্বের কাছে নিয়ে গেল যে ভারত এক্ষেত্রে বিশ্বে শ্রেষ্ঠ হতে পারে। এটা এমন এক সময়ে ছিল যখন বিনিয়োগ আসা শুরু করেছে, ভারত তার নিজের সম্পর্কে আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী বোধ করছে। একারণে গর্বের এক অনুভূতি ছিল আমরা যা করছিলাম তাতেই। এবং আমাদের সকলের মঙ্গলার্থে, ইংরেজরা আবিষ্কারে অত্যন্ত দক্ষ, এবং তারা পৃথিবীর সকলকে সেসবে অনেক দক্ষ হতে দেয়। (হাসি) সুতরাং ইংল্যাণ্ড টিটোয়েন্টি ক্রিকেট উদ্ভাবন করেছে, এবং ভারতকে তা ছিনতাই করতে অনুমতি দিয়েছে। এটা আমরা তা সরাসরি নিয়ে নিয়েছি, যেরকম তা। (হাসি)
এবং আমরা আমাদের নিজস্ব টিটোয়েন্টি লীগ চালু করলাম। ছয় সপ্তাহ, শহর বনাম শহর। এটা আমাদের জন্য সম্পূর্ণ নতুন এক জিনিস ছিল। আমরা সবসময় শুধুমাত্র আমাদের দেশকে সমর্থন দিয়েছি-- দুটি দিক যে দুটি সম্পর্কে ভারত সবসময়ই গর্বিত ছিল তাদের দেশ, দেশকে মাঠে প্রতিনিধিত্ব করা। একটি ছিল যুদ্ধ, ভারতীয় সেনাবাহিনী, যেটা প্রায়শই ঘটতো না। আরেকটি ছিল ভারতীয় ক্রিকেট। এখন, হঠাৎ করেই আমাদের শহরের লীগগুলো সমর্থন করতে হতো। কিন্তু যেসব মানুষ এসব শহুরে লীগের সাথে জড়িত হচ্ছিল তারা সবাই ছিল পশ্চিমা জগত থেকে উদীপ্ত। যুক্তরাষ্ট্র হচ্ছে খেলাধূলার লীগের জন্য বিখ্যাত। এবং তারা বলে, "আমরা ভারতে আকর্ষণীয় এক লীগ গড়ে তুলবো।" কিন্তু ভারত কি তার জন্য প্রস্তুত ছিল? কারণ ক্রিকেট, অনেকদিন ধরে ভারতে আয়জিত হচ্ছিল। তা কখনো বিপনণ বা বিক্রি হয়নি- তা আয়োজন করা হত। এবং দেখুন তারা কি করেছে আমাদের সুন্দর, মনোরম, সহজ পারিবারিক খেলাকে। হঠাৎ করেই, আপনার সামনে তা ঘটছে।
এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান যা আর সকল লীগের সাথে তুলনীয়। এটা এমন এক ভারত যা রণতরী কিনছে। এটা এমন এক ভারত যা জাগুয়ার কিনছে। এটা এমন এক ভারত যা প্রতি মাসে নিউজিল্যাণ্ডের জনসংখ্যার দ্বিগুণের বেশি মোবাইল ফোন বাজারে নামাচ্ছে। সুতরাং, এটা এক ভিন্ন ভারত। কিন্তু এই ভারত আবার অনেকটা গোঁড়া বা প্রচলিত মতে বিশ্বাসী যা আধুনিক হতে পেরে খুবই খুশি, কিন্তু তা মানুষকে বলতে চাইতো না। এবং তাই, তারা বিস্ময়াভিভূত হয়েছিল যখন চিয়ারলিডার্স ভারতে এসে উপস্থিত হল। সবাই গোপনে তাদের দেখতো, কিন্তু সবাই দাবি করতো তারা দেখে না।
ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন মালিকরা আগেকার রাজপুত্র নয়। তারা আমলাও নয় যাদের খেলাধূলায় আসতে বাধ্য করা হয়েছিল, যারা আসলে একে ভালবাসতো না। এই লোকগুলো ছিল বড় বড় রাশভারি কোম্পানির মালিক। তাই তারা ক্রিকেটের প্রচারণা শুরু করলো বড় আকারে, ক্রিকেটের ক্লাবগুলোর প্রচয়ারনাও বড় আকারে শুরু করলো। এবং তাদের বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করবার সামর্থ্য ছিল আমি বোঝাতে চাচ্ছি যে আইপিএল এর ছিল ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার এবং তা মাঠে একটি বল গড়ানোর আগেই, এক দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার টেলিভিশন রাজস্ব হিসেবে ১০ বছরের জন্য, এবং আরও ৭০ মিলিয়ন ডলারের বেশি পাওয়া গেছে ফ্রাঞ্চাইজগুলো থেকে যারা টাকা দিচ্ছিল। এবং তাদেরকে নিজ নিজ শহরে আপিল করতে হতো, কিন্তু তাদেরকে এই কাজটা করতে হবে পশ্চিমাদের মত, ঠিক? কারণ আমরা লীগ চালু করছি। কিন্তু তারা যে কাজে সবচেয়ে ভাল ছিল তা হল তারা বিষয়টাকে স্থানীয় করে ফেলতে পেরেছিল। তাই, আপনাদেরকে একটি উদাহরণ দিচ্ছি কিভাবে তারা করেছিল- ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড এর মত করে প্রচারণা নয়, কিন্তু একদম মুম্বাই ধরনের প্রচারণা। এই যে দেখুন।
অবশ্য, অনেকে বলেছে, "হয়তো তারা খেলার চেয়ে ভাল নাচতে পারে।" (হাসি) কিন্তু তা ঠিক আছে। এটা আরও যা করেছিল তা হল, এটা বদলে দিয়েছিল আমাদের ক্রিকেটকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি। সব সময়, আপনি যদি একজন তরুণ ক্রিকেটারকে চাইতেন, আপনি তাকে তুলে আনলেন স্থানীয় গলি থেকে, আপনার নিজের শহরের এবং আপনি ভীষণ গর্বিত এই ব্যবস্থার যা তরূণ উদীয়মান খেলোয়াড় সৃষ্টি করছে। এখন, হঠাৎ করে, আপনি যদি একটা বল মারতেন-- ধরুন মুম্বাই একটা বল মারছে, উদাহরণস্বরূপ, তাদের কালবাদেবীতে যেতে হত না অথবা শিবাজী পার্ক অথবা কোথাও যেখানে তাদের একত্র করা যেতো, তারা ত্রিনিদাদে যেতে পারে। এটা ছিল নতুন ভারত, নয় কি? এটা ছিল নতুন দুনিয়া, যেখানে আপনি যেকোন উৎস থেকে পেতে পারতেন যতক্ষণ আপনি সঠিক পণ্যটি সঠিক মূল্যে নিতে পারছেন। এবং হঠাৎ করেই যেন ভারতীয় ক্রিয়াজগত বাস্তবে জেগে উঠেছে এমনভাবে যেন আপনি সবচেয়ে ভাল পণ্যটি সবচেয়ে ভাল মূল্যে পৃথিবীর যেকোন প্রান্ত থেকে পেতে পারেন।
তাই, মুম্বাই ইণ্ডিয়ানরা ত্রিনিদাদ ও টোবাগো থেকে ডুয়াইন ব্রাভোকে উড়িয়ে নিয়ে আসে এক রাতে। এবং তার যখন আবার ফিরে যেতে হল ওয়েস্ট ইণ্ডিজে, তখন তারা জিজ্ঞেস করলো, "তোমার কখন পৌছাতে হবে?" সে বললো, "আমাকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেখানে থাকতে হবে, যেকারণে আমাকে আজকেই যেতে হবে।" আমরা বললাম, "না, না, না। তোমার কখন যেতে হবে সেটা বিষয় নয়; বিষয় হচ্ছে তোমার কখন পৌছাতে হবে?" এবং সে বললো, "আমাকে পৌছাতে হবে এক্স তারিখে। " এবং তারা বললো, "ভাল, তুমি এক্স বিয়োগ একদিন পর্যন্ত খেলবে।" সুতরাং, সে হায়দ্রাবাদে খেললো, এবং এরপর সরাসরি চলে গেল খেলা শেষে, চলে গেল স্টেডিয়াম থেকে হায়দ্রাবাদ এয়ারপোর্টে, একটি প্রাইভেট সংস্থার জেটপ্লেনে- প্রথমে পর্তুগালে রিফুয়েলিং করে, পরবর্তীতে ব্রাজিলে; সে ঠিক সময়ে ওয়েস্ট ইণ্ডিজে পৌছে গেল। (হাসি) ভারত কখন এত বড় পরিসরে চিন্তা করতে পারেনি। কখনো ভারত বলতে পারেনি, , " আমার একজন খেলোয়াড় প্রয়োজন যে খেলবে একটি ম্যাচ আমার পক্ষে, এবং আমি তাকে প্রাইভেট সংস্থার জেটপ্লেন ব্যবহার করে তাকে আবার কিংস্টন, জ্যামাইকাতে পৌছে দিব। যাতে সে সেখানেও খেলতে পারে।" এবং আমি চিন্তা করে দেখলাম, "বাহ, আমরা পৃথীবীতে একটি পর্যায়ে এসে পৌছেছি, তোমরা জানো?" আমরা একটি পর্যায়ে পৌছে গেছি। আমরা বড় কিছু ভাবছি।"
কিন্তু এটা আরও যা করেছে তা হল এটা ভারতীয় ক্রিকেটে দুটো সবচেয়ে গুরুরত্বপূর্ণ উপাদানের মিলন ঘটিয়েছে, যা হচ্ছে ক্রিকেট এবং ভারতীয় চলচ্চিত্রের। সেখানে আছে ক্রিকেট এবং চলচ্চিত্র। এবং তারা একসাথে হয়েছে কারণ চলচ্চিত্রের মানুষগুলো এখন ক্লাবগুলোর মালিক হচ্ছে। এবং তাই, মানুষ এখন খেলা দেখতে যাচ্ছে প্রীতি জিনতাকে দেখতে। তারা ক্রিকেট খেলা দেখতে যাচ্ছে শাহরুখ খানকে দেখতে। এবং মাঝে মাঝে অদ্ভূত কিছু ঘটে। আমরা এখন ভারতীয় ক্রিকেটে গান এবং নাচ ব্যবহার করছি। এবং তাই এর মধ্যে প্রতিনিয়ত ভারতীয় চলচ্চিত্র প্রভাব বিস্তার করছে। এবং অবশ্যই, আপনি যদি প্রীতি জিনতার পক্ষে থাকেন- এইযে সেরকমটি দেখতে পাচ্ছেন এই ক্লিপটিতে- আপনি যদি ভাল করেন আপনি প্রীতি জিনতাকে আলিঙ্গন করতে পারছেন। সুতরাং এটাই ছিল সবচেয়ে বড় কারন ভাল করবার। এইযে দেখুন-- সবাই প্রীতি জিনতাকে দেখছে।
এবং এরপর অবশ্য শাহরুখ খান কলকাতার দর্শকদের মুগ্ধ করছেন। আমরা সবাই কলকাতায় খেলা দেখেছি, কিন্তু আমরা কখনও এরকম কোনকিছু দেখিনিঃ শাহরুখ, বাংলা সংগীতের সাথে, সবাইকে নাচাচ্ছেন, কলকাতার পক্ষে--ভারতের পক্ষে নয়, বরং কলকাতার পক্ষে। কিন্তু এটা একবার দেখুন।
একজন ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা একজন পাকিস্তানি খেলোয়াড়কে আলিঙ্গন করছে কারণ তারা কলকাতায় জয়লাভ করেছে। আপনি কি ভাবতে পারেন? এবং আপনি কি জানেন পাকিস্তানি ক্রিকেটার কি বলেছিল? (হাততালি) "ইস, আমি যদি প্রীতি জিনতার দলে খেলতে পারতাম!"
কিন্তু আমি মনে করি আমি এই সুযোগটি গ্রহণ করবো-- এখানে কিছু মানুষ আছেন পাকিস্তান থেকে। আমি খুবই খুশি যে আপনারা এখানে কারণ আমি মনে করি আমরা দেখাতে পারি যে আমরা একসাথে থাকতে পারি এবং বন্ধু হতে পারি, তাই না? আমরা একসাথে ক্রিকেট খেলতে পারি, আমরা বন্ধু হতে পারি। সুতরাং আপনাদের অনেক ধন্যবাদ আশার জন্য, আপনারা যারা পাকিস্তান থেকে এসেছেন।
অবশ্যই সেখানে সমালোচনাও ছিল। তারা বলেছিল, " খেলোয়াড়দের কেনা-বেচা করা হয়? তারা কি শস্য? তারা কি গরু?" কারণ আমাদের নিলামের ব্যবস্থা ছিল, আপনারা দেখুন। তুমি কিভাবে একজন খেলোয়াড়ের মূল্য নির্ধারণ কর? এবং তাই যে নিলাম হল তাতে লোকজন সত্যিকার অর্থেই বলতে লাগলো, "ধুর, এত এত মিলিয়ন ডলার এই এই খেলোয়াড়ের জন্য।" এই যে।
নিলামকারীঃ ১৫ লক্ষ ডলারে। চেন্নাই। শেন ওয়ার্ন ৪৫০,০০০ ডলারে বিক্রিত।
এইচবিঃ হঠাৎ করেই যে খেলায় খেলোয়ারেরা ৫০ রুপি পেত দিনে অর্থাৎ ২৫০ রুপি একটি পাঁচদিনের টেস্ট ম্যাচের জন্য, কিন্তু আপনি যদি ৪ দিনে শেষ করেন তবে পেতেন মাত্র ২০০। বর্তমানে সবচেয়ে ভাল ভারতীয় খেলোয়াড় যারা প্রতিটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে-- বা একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে সবচেয়ে সেরা খেলোয়াড়-- তাদের আদর্শ চুক্তি হচ্ছে ২২০,০০০ ডলার এক বছরে। এখন তারা ৫০০,০০০ ডলার পাচ্ছে মাত্র ৬ দিনের কাজে। এরপর এন্ড্রু ফ্লিনটফ ইংল্যাণ্ড থেকে এসে পড়লো, সে প্রায় দেড় মিলিয়ন ডলার পেল এবং ফিরে গিয়ে বললো, " আমি চার সপ্তাহের জন্য, ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড আর স্টিভ জেরার্ডের চেয়ে বেশি আয় করছি, এবং আমি ফুটবলারদের চেয়ে বেশি আয় করছি, অবিশ্বাস্য।" এবং সে কোথা থেকে এই অর্থ আয় করছে? ভারতের একটি ছোট ক্লাব থেকে। আপনি কি কখনও ভাবতে পেরেছেন এরকম একটি দিন আসবে? দেড় মিলিয়ন ডলার ছয় সপ্তাহের কাজের জন্য। তা আসলে খারাপ না, ঠিক না?
তাই, ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার মাঠে একটি বল গড়াবার আগেই। ভারত যা করছিল, তা হচ্ছে বিশ্বের সেরাদের মাঝে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করছিল। এবং একটি বড় ব্রাণ্ডে তা পরিণত হল। ললিত মোদী তখন বিজনেস টুডে'র প্রচ্ছদ পাতায়। আইপিএল ভারতের সবচেয়ে বড় ব্র্যাণ্ড হল। এবং, আমাদের নির্বাচনের কারণে, তা সাউথ আফ্রিকায় সরিয়ে নিতে হলো, এবং আমাদের টুর্নামেন্টটি তিন সপ্তাহের মধ্যে শুরু করতে হলো, একটি পুরো টুর্নামেন্টকে তিন সপ্তাহের মধ্যে সরিয়ে ফেলা। কিন্তু আমরা তা পেরেছি। আপনি কি জানেন কেন ও কিভাবে? কারণ আর কোন দেশ আমাদের মত ধীরগতিতে কাজ করে না কোন অনুষ্ঠানের তিন সপ্তাহের আগে, এবং কেউ আমাদের চেয়ে দ্রুত কাজ করে না শেষের তিন সপ্তাহে।
আমাদের জনসংখ্যা, যা আমরা অনেকদিন ধরে ভেবেছিলামা আমদের সমস্যা, হঠাৎ করে আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদে পরিণত হল কারণ আরও অনেক মানুষ তা দেখছিল-- বড় একটি ভোক্তাশ্রেণী-- সবাই আসছে ক্রিকেট খেলা দেখতে। আমরা আবার ক্রিকেটকে ভারতের একমাত্র খেলায় পরিণত করেছি, যা একটি দুর্ভাগ্য, কিন্তু ভারতে আর সকল খেলা ক্রিকেটকে ধাক্কা দিয়ে বড় করেছে, যা আমাদের সময়ের জন্য একটু ট্র্যাজিক।
এখন, যাবার আগের শেষ মুহূর্তে-- এসকল কিছুর কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে। অনেক সময় ধরে, ভারত একটি দরিদ্র দেশ, ধূলা, ভিক্ষুকরা, সাপুড়ে, ময়লা, দিল্লি বেলি- মানুষ আসার আগে দিল্লি বেলির কাহিনী শুনেছে। এবং, হঠাৎ করে, ভারত হয়ে উঠেছে সু্যোগের জায়গা। সারা বিশ্বের ক্রিকেটরা বললো, "তুমি জানো, আমরা ভারতকে ভালবাসি। আমরা ভারতে খেলতে ভালবাসি।" এবং তা শুনতে ভালো লেগেছে, তুমি জানো? আমরা বললাম, "ডলার আসলে খুবই শক্তিশালী।" তুমি ভাবতে পারো, তোমার দৃশ্যপটে ডলার এবং সেখানে আর কোন দিল্লি বেলী নেই। সেখানে কোন ধূলা নেই, কোন ভিক্ষুক নেই, সাপুড়ের দল হাওয়া হয়ে গেছে, সবাই চলে গেছে। এটা তোমাকে বলছে আসলে কিভাবে ধনতন্ত্র কাজ করে।
ঠিক এইভাবে, শেষ পর্যন্ত, একটি ইংরেজদের খেলা যা ভারত জবরদস্তি শিখে গেল, কিন্তু টিটোয়েন্টি আগামী বিশ্বের অগ্রদূত হতে যাচ্ছে। তুমি যদি খেলাকে পৃথিবীময় নিয়ে যেতে চাও, এটা হতে হবে সবচেয়ে কম সময়ের জন্য। আপনি একটি অসীম টেস্টকে চায়নাতে নিতে পারবে না এবং ১৪ দিন ধরে বসে থেকে কোন ফলাফল পাবে না, অথবা আপনি এটাকে পৃথিবীর সবর্ত্র নিতে পারবেন না। সুতরাং টিটোয়েন্টি এ কাজগুলোই করছে। আশা করা যায়, এটা সবাইকে আরও ধনী করবে এবং খেলাটাকে বড় করবে এবং আশা করা যায় এটা ক্রিকেট ধারাভাষ্যকারদের আরও বেশি সুযোগ দেবে ধারাভাষ্য দেবার।
You can share this video by copying this HTML to your clipboard and pasting into your blog or web page. This video will play with subtitles.
You either have JavaScript turned off or have an old version of the Adobe Flash Player. To view this rating widget you
need to get the latest Flash player.
If your browser allows only "trusted sites" to execute Javascript, you should add the "googleapis.com" domain to your whitelist to allow our Flash detection to work properly.
Got an idea, question, or debate inspired by this talk? Start a TED Conversation.
বড় বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক বিষয়ের গল্পঃ ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার হার্সা ভোগলে বর্ণনা করছেন ধ্রুতগতির টোয়েণ্টি-টোয়েন্টি খেলার চমকপ্রদ আবির্ভাবকে যা আসলে আধুনিক ভারতের উত্থানের সমসাময়িক। ইতিহাসের পথ ধরে ইংরেজদের ঘুমন্ত ধাচের ক্রিকেট খেলা থেকে শুরু করে বর্তমানের জনপ্রিয় মালিকদের এবং মিলিয়ন ডলার চুক্তির বর্ণনা তিনি তুলে ধরেছেন এই উপস্থাপনায়।
Harsha Bhogle can talk about the business side of cricket, the technicalities of play and the psychology of the players with equal authority. Full bio »
Translated into Bengali by Palash Sanyal
Reviewed by Rezwan I
Comments? Please email the translators above.
19:01 Posted: Jan 2007
Views 643,429 | Comments 86
15:50 Posted: Nov 2009
Views 1,078,626 | Comments 261
04:28 Posted: Dec 2009
Views 172,426 | Comments 158
Just follow the guidelines outlined under our Creative Commons license.
This comment will be attributed to . Not ? Sign Out.