Return to the talk Return to talk

Transcript

Select language

Translated by Subasish Das
Reviewed by Palash Ranjan Sanyal

0:11 সময়টা হচ্ছে ১৯০২ সালের শরৎকাল। প্রেসিডেন্ট থিয়োডোর রুজভেল্টের একটু অবসরের প্রয়োজন হয়েছিল হোয়াইট হাউজের কাজ থেকে। তিনি তখন একটা ট্রেনে করে মিসিসিপি গেলেন কালো ভালুক শিকার করতে। জায়গাটা ছিল শহর থেকে একটু দূরে নাম স্মিডস্। প্রথম দিনে কোনো শিকারের দেখা পেলেন না। সবার জন্য এটা খুব হতাশাজনক ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় দিনে কুকুরেরা একটা ভালুককে বাগে পেল, যদিও অনেক কাঠ খড় পুড়িয়ে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট তখন হাল ছেড়ে দিয়ে ক্যাম্পে ফিরে গেছেন দুপুরের খাওয়া খেতে। তাঁর শিকারের সহকারী ভালুকটাকে রাইফেলের বাট দিয়ে মাথায় আঘাত করে সেটাকে একটা গাছের সাথে বেঁধে ফেলে তারপর বিউগল বাজিয়ে রুজভেল্টকে আসার আহবান করলেন যাতে প্রাণীটাকে গুলি করার মর্যাদাটা প্রেসিডেন্ট পান। ভালুকটা মেয়ে। আহত ভালুকটা বিমূঢ় আর আর অনেক স্বল্প ওজনের ছিল আর দেখতে ছোটোখাটো। রুজভেল্ট যখন ভালুকটাকে গাছের সাথে বাঁধা অবস্থায় দেখলেন তিনি আর গুলি করতে পারলেন না। তাঁর মনে হল এটা একটা অমর্যাদাকর কাজ হবে।

1:08 কিছুদিন পরে এই ঘটনা স্মরণযোগ্য করে রাখা হলো ওয়াশিংটনের একটা রাজনৈতিক কার্টুনের মাধ্যমে। শিরোনাম "মিসিসিপিতে অসমাপ্ত কাজ" সেখানে আঁকা হলো রুজভেল্ট বন্দুক নামিয়ে দাঁড়িয়ে ভালুকটিকে জীবন দিলেন। ভালুকটা মাটিতে বসে। ভয়ার্ত খোলা দুটো চোখ আর মাথার সাথে ছোট্ট দুটো কান খাড়া। দেখে এতো অসহায় মনে হবে আমাদেরও মনে হবে একে জড়িয়ে ধরে প্রবোধ দেই। সেই সময়ে এই কার্টুন এতো পরিচিত ছিল না। কিন্তু এখন যদি কেউ কার্টুনটার দিকে তাকায় এটাকে চিনতে এক মুহূর্ত দেরি হবে না। আরে এটাতো টেডি বিয়ার। আসলে এভাবেই টেডি বিয়ারের জন্ম। খেলনা প্রস্তুতকারকেরা কার্টুন থেকে টেডি বিয়ারের অবয়বটা গ্রহণ করেন। তারপর এর আদলে একটা মখমলের খেলনা বানান। নাম পর্যন্ত দেয়া হয় রুজভেল্টের নামে। টেডির বিয়ার।

1:47 এখানে আমি নিজেও একটু অপ্রস্তুত এই স্টেজে এসে আমি আপনাদেরকে আমার বক্তৃতার সময় থেকে শত বছরের পুরানো একটা গল্প শোনাচ্ছি শত বছরের পুরানো একটা গল্প শোনাচ্ছি চিরেচ্যাপ্টা করার যায় এমন একটা খেলনার আবিষ্কারের কথা। এই গল্পের ভেতরে আরো খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা গল্প আছে। কিভাবে প্রকৃতি সম্পর্কে আমাদের আমূল পাল্টে যায়। আর সাথে সাথে এখনকার পৃথিবীতে আমাদের শোনা গল্প কিভাবে প্রকৃতিকে পাল্টে দেয়।

2:17 টেডি বিয়ারের কথা আবার ভাবুন। অতীতের দিকে না তাকালে এটা অবশ্যই মনে হবে ভালুক মানেই আদুরে তুলতুলে আর কে না তার বাচ্চা এই গুলটুশ খেলনাটা নিয়ে খেলতে না দেয়। কিন্তু ১৯০২ সালের দিকে ভালুককে কেউ আদুরে তুলতুলে ভাবতো না। অথচ ভালুকের চেহার কিন্তু সেই একই। কিন্তু তাদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি এইরকম ছিল না। ১৯০২ সালে ভালুক মানেই কিম্ভূতকিমাকার একটা প্রাণী। ভালুককে ভীষণ ভয় পেত বাচ্চারা। সেই সময়কার দিনে ভালুকের কারণে মানুষেরা নানা বিপদে পড়তো। আর সকার ধারাবাহিকভাবে ভালুক ও তার সাথে অন্যান্য ভয়ানক প্রাণী যেমন নেকড়ে এসব ধারাবাহিকভাবে বিলীন করে দিচ্ছিল। এদেরকে খুব ভয়ানকভাবে অন্যদের কাছে পরিচিত করানো হতো। এদেরকে বলা হতো খুনী কেননা এরা মানুষের গৃহপালিত পশুদের খেয়ে ফেলতো। একজন সরকারী জীববিজ্ঞানী ভালুকের মতো প্রাণীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করলেন। তিনি বললেন এখনকার আধুনিকে বিশ্বে এসব প্রাণীদের কোনো দরকার নেই। এদেরকে সম্পূর্ণ সরানোর উদ্যোগ নেয়া হলো। দশ বছরে প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ নেকড়ে হত্যা করা হলো। প্রকৃত বিচরণস্থান থেকে ৯৫ শতাংশ ভালুককে সরিয়ে দেয়া হলো। একসময় যেই জায়গা দিয়ে তিন কোটি বাইসন এই স্থলভাগ দিয়ে বিচরণ করতো। এইরকম গল্পও শোনা যেত পালে পালে এই পশুদের রাস্তা দেয়ার জন্য ট্রেন আটকা পড়তো চার কি পাঁচ ঘন্টার জন্যে। ১৯০২ সালের দিকে মনে হয় শ'খানেক ভালুক আর অবশিষ্ট ছিল। আমি বলতে চাইছি এই টেডি বিয়ারের জন্ম কিন্তু এই ভয়ানক হত্যাযজ্ঞের সময়েই। এটা পরিষ্কার যে কিছু মানুষ মন থেকে এই হত্যাযজ্ঞ মেনে নিতে পারছিল না। আমেরিকা ভালুককে ভয় পায় আর ঘৃণা করে। কিন্তু হঠাৎ করে আমেরিকার শখ চাপলো ভালুককে একটা আলিঙ্গন করে জড়িয়ে ধরে।

3:59 গত কয়েক বছর ধরে এই বিষয়টা আমাকে ভীষণ ভাবাচ্ছে। কিভাবে আমরা প্রাণীদের কথা ভাবি কিভাবে তাদেরকে আমরা অনুভব করি। তাদেরকে আমরা কিভাবে অনুমান করি সেটা কিভাবে আমাদের চিন্তায় স্থান নেয়। একটা ভীষণ প্রতিকূল অবস্থায় আমাদের অবস্থান যেখানে পৃথিবীর অর্ধেক প্রাণবৈচিত্র্য এই শতাব্দীর শেষভাগে হারিয়ে যাবে। কেন আমরা কেবল বিশেষ কিছু প্রজাতি নিয়ে চিন্তিত কিন্তু অন্যদের ব্যাপারে গা নেই। সমাজবিজ্ঞানের একটা নতুন শাখা এইসব প্রশ্নকে আলোর মুখ দেখাচ্ছে তারা উত্তর দেয়ার চেষ্টা করছে কিছু কিছু প্রাণী নিয়ে কেন আমাদের অদ্ভূত গোলমেলে ভাবনা আর কিভাবে সেগুলোর জন্ম। এই শাখার গবেষণাপত্রগুলো আমি খুব মন দিয়ে পড়েছি বেশ সময় নিয়ে। আমি শুধু এটুকু বলতে পারি এইসব গবেষণাত ফলাফল নানামুখী আর বিচিত্র। কয়েকটা স্বতসিদ্ধ আমার বেশ মন কেড়েছে। নিউ ইয়র্ক এর অভিজাত পাড়ায় কেউ যত বেশি টিভি দেখবে সে ততো বেশি এই ভয়ে আক্রান্ত হবে এই ভেবে যে তাকে কালো ভালুক তাড়া করবে। তোমরা যদি কোনো আমেরিকানকে বাঘ দেখাও তারা এই ভেবে নিবে যে বাঘটা মেয়ে। ছেলে না। একটা নকল সাপ আর একটা নকল কাছিম রাস্তার ওপর রেখে দেয়া হলে গাড়ির চালকেরা যতোবার সাপটাকে চাপা দেয় কাছিমটাকে ততোবার দেয় না। তিন শতাংশের মতো চালক ইচ্ছে করেই প্রাণীটাকে চাপা দেয়ার চেষ্টা করে। ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা সার্ফ করার সময় কোনো ডলফিন দেখলে বেশি বিমোহিত হয়। আটষট্টি শতাংশ মা যারা নিজেরা নিজদের আত্মমর্যাদায় বিশ্বাস রাখে নিজেদেরকে পিওরিনার বিজ্ঞাপনের নৃত্যরত বিড়ালের সাথে নিজেদের গুলিয়ে ফেলে (হাসি)। আমেরিকানরা ভাবে লবস্টার পায় রা থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ তবে বোকা। তুর্কি মোরগেরা ভোঁদর থেকে বেশি ভয়ানক পান্ডা গুবরে পোকার চেয়ে দ্বিগুণ সুন্দর।

5:31 বোঝা যাচ্ছে এইসব সম্পর্কের কিছু কিছু শারীরবৃত্তিক। আমাদের মতো দেখতে প্রাণীদের প্রতি আমরা বেশি সমব্যথী। বিশেষত যখন এরা দেখতে মানুষের বাচ্চার মতো। বড়ো চোখ। মুখ সামনের দিকে। সাথে গোলাকার মুখ। যেন গুঁটিসুটি পাকানো। তাই আমরা যখনো বড়োদিনের কার্ড পাই মিনিসোটার কোনো বড়ো খালার কাছ থেকে কার্ডের ওপরে সাথে হাসিখুশি কোনো পেঙ্গুইন গ্লিসেয়ার বে-উলফ মাকড়শার ছবি দেয়া কার্ড কিন্তু পাই না। কিন্তু এটাওতো বাইরের অবয়বের। তাই না? একটা সামাজিক সীমানার মধ্যে আমরা প্রাণীদের নিয়ে ভাবি আমরা এইসব প্রাণীদের নিয়ে গল্প বলি এবং অন্যান্য সকল গল্পের মতো এইসব গল্প সময় বা পারিপার্শ্বিক অতিক্রম করে কখনো বলা হয় না। সুতরাং আবার একবার ভাবুন কিভাবে সেই ভয়ানক কিম্ভূত ভালুক হয়ে গেলো আমাদের প্রিয় টেডি বিয়ারে। কারণটা কি? আমেরিকা শহর বাড়ছিল তখন। সেই প্রথম অনেক মানুষ একসাথে শহরে বাস করা শুরু করেছে প্রকৃতির কাছ থেকে আমরা একটু একটু দূরে যাচ্ছি। এটা এমন একটা জায়গা যেখানে ভালুক নিয়ে আমরা রোমাঞ্চ পর্যন্ত করতে পারি। প্রকৃতিকে আমরা এতো ভালভাবে ও শুদ্ধভাবে ভালো লাগাতে থাকি কারণ সেখান থেকে আমাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সুতরাং একটা চক্র ঘুরে বেড়াচ্ছে সব প্রাণীদের নিয়ে। একটা চক্রের মধ্যে আমরা ঘুরে বেড়াচ্ছি যেখানে প্রাণীদের আমরা পিশাচ বানিয়ে সমূলে নির্মূল করছি যখন করতে করতে শেষ সীমানায় এসে পৌছাচ্ছি তখন ঘুরে দাড়িয়ে তার প্রতি অনুরাগ দেখাচ্ছি। একবার পেশিপ্রদর্শন করছি। তারপর নিজেরাই সীমা হারিয়ে ফেলছি আমাদের ক্ষমতার দৌড় নিয়ে।

6:45 উদাহরণ হিসেবে এই চিঠিটা। এটা এরকম হাজারো বাচ্চার কাছ থেকে পাঠানো চিঠি আর আঁকা-ছবি যেগুলো পাঠানো হয়েছিল বুশ প্রশাশনের কাছে। মেরুভল্লুক বাঁচানোর আর্জি নিয়ে। বিপন্নপ্রায় প্রাণী রক্ষা আইনের আওতায় এসব চিঠি পাঠানো হয়েছে ২০০০ সালের শেষের দিকে। পরিবেশ বিপর্যয় নিয়ে যখন চারিদিকে মানুষ সরব হওয়া শুরু করেছে। তখন আমরা দেখছিলাম এক টুকরো বরফ খন্ডের ওপর একটা মেরুভল্লুক গোমরামুখে দাঁড়িয়ে। এসব ফাইলের দিকে তাকিয়ে আমি দিনের পর দিন কাটিয়ে দিলাম। আমি সত্যিই এগুলো ভালোবাসতাম। যেমন এটা আমার খুব প্রিয়। দেখতে পাচ্ছেন একটা মেরুভল্লুক ডুবে যাচ্ছে আর লবস্টার আর হাঙ্গর সেটাকে খেয়ে ফেলছে। এই চিঠিটা এসেছে ফ্রিটস্ নামের এক বাচ্চার কাছ থেকে পরিবেশ পরিবর্তনের একটা সমাধান সে বের করে ফেলেছে। ইথানলের একটা দ্রবণ থেকে সে সমাধান বের করে ফেলছে। লিখেছে- আমি মেরিভল্লুকদের নিয়ে খুব চিন্তিত। আমি ওদের ভীষণ ভালোবাসি। গমের রস থেকে সবাই গাড়ির তেল ব্যবহার করতে পারে। ইতি ফ্রিটস্। দুশো বছর আগে যারা আর্ক্টিকে অনুসন্ধানে যেতো লিখতো কিভাবে মেরিভল্লুকেরা লোলুপ দৃষ্টিতে তাদের নৌকার দিকে তাকানোর দৃশ্য এমনকি ভল্লুকের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়ার পরেও সেই দৃষ্টির হেরফের হতো না। কিন্তু এখনকার বাচ্চারা মেরিভল্লুকের দিকে সেই চোখে তাকায় না। এমনকি আমরাও ১৯৮০ দিকে মেরুভল্লুকের দিকে এভাবে তাকাতাম না। আমরা ভাবতাম এসব প্রাণী আর্ক্টিকের ত্রাস কিন্তু দেখুন জলবায়ু পরিবর্তন কিভাবে আমাদেরকে প্রাণীদের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দিচ্ছে। রক্তলোলুপ মানুষ হত্যাকারী থেকে কিভাবে মেরুভল্লুক এখন নরমসরম নিমজ্জমান একটা প্রাণী। আমরা যখন এটা নিয়ে ভাবি ১৯০২ সালের টেডি বিয়ারের গল্পের পরিণতির কথা আমদের মনে আসে। কারণ তখন আমেরিকা মোটামুটি এই অঞ্চলের পুরোটা নিজের দখলে এনেছে। আমরা তখন কেবল এইসব ভয়ানক পিশাচ প্রাণীদের সাফা করতে ব্যস্ত ছিলাম। সমাজের হাত সব জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে সবচেয়ে চূড়ায় পর্যন্ত গিয়ে। ঘটনাক্রম এমন যে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাণী পর্যন্ত আমাদের কাছে তুলতুলে আর ক্ষতিহীন শিকার।

8:25 এই টেডি বিয়ারের নেপথ্যে আরো একটা গল্প আছে। অনেক লোক সেই কথা বলে না। আমি এখানে সেটার কথা বলবো। যদিও রুজভেল্টের ১৯০২ সালের শিকারের পরপরেই এই খেলনার বাজার দখল করতে বেশি সময় লাগে নি। কিন্তু অনেক লোকি ভেবেছে এটা একটা রাজনৈতিক খেলনা উপাদান যখন প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়বে তখনি এর বিক্রিবাট্টা কমে যাবে। রুজভেল্টের উত্তরাধিকারী ছিলেন ১৯০৯ সালে উইলিয়াম হাওয়ার্ড টাফট। উনি যখন সিংহাসনে বসতে যাবেন তখন খেলনা প্রস্তুতকারকেরা উচাটন পরে বিশাল খেলনা বের করার জন্যে। তবে সে যাত্রায় ভালো ফল আসেনি।

8:58 প্রেসিডেন্টের আগমন উপলক্ষ্যে আটলান্টায় আয়োজন করা হয়েছে এক বিশাল ভুরিভোজনের। মূল অনুষ্ঠানের আগে থেকেই চারিদিকে সবার চাউর খাবারের তালিকার দিকে। তারা প্রেসিডেন্টকে দক্ষিণের মুখরোচক একটা খাবারের ব্যবস্থা করলো। যেটা পরিচিত 'পসাম অ্যান্ড ট্যাটার' নামে। একটা পুরো পসাম আলুর ওপরে রেখে রোস্ট করা হবে আর অনেকসময় পসামের লেজটা পরিবেশন করা হয় যেন বড়ো আকারের একটা নুডল। টাফটের টেবিলে যেটা এসেছিল সেটার ওজন ১৮ পাউণ্ড। খাবারের পরে অর্কেস্ট্রা পরিবেশনা শুরু করলো। উপস্থিত দর্শকেরাও সেখানে যোগ দিল। হঠাৎ করে টাফটের সামনে সেখানেকার স্থানীয় সমর্থকেরা উপহার নিয়ে আসলো উপহার আর কিছুই নয়- একটা নাদুশনুদুশ খেলনা পসাম। তার আবার নকশা করা চোখ আর লোমহীন কান। এটাই হচ্ছে সেই খেলনা পসাম সেটা প্রেসিডেন্ট টাফটের প্রেসিডেন্সির প্রতীক হয়ে দাঁড়াবে রুজভেল্টের টেডি বিয়ারকে পাশ কাটিয়ে। নাম দেয়া হলো "বিলি পসাম"। চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে জর্জিয়ার বিলি পসাম কোম্পানি সারাদেশ ব্যাপী এই পণ্যের বিপননের ব্যবস্থা করে ফেলেছে। লস অ্যাঞ্জেলস্ টাইমস্ বেশ দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা দিয়েছে- টেডি বিয়ার এখন পেছনের আসনে গিয়ে বসেছে। সামনের চার কি আট বছর আমেরিকার বাচ্চারা এখন বিলি পসাম নিয়ে খেলবে। শুরু হলো তখন পসাম-জ্বর। পোস্টকার্ড, পিন কফির দুধের পাত্র- সর্বত্র পসামের মেলা। এমনকি কাঠির ওপর পসাম নিয়ে বাচ্চাদের পতাকার মতো করে খেলনা। এতো এতো প্রচারণা বা বিপণনের ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও এই খেলনার আয়ু ছিল খুব অল্প সময়ের জন্যে। এই খেলনা ছিল চরম রকমের ফ্লপ। এই সামগ্রীর কথা বছর শেষ হতে না হতেই সবাই ভুলে গেল। বিলি পসাম এমনকি বড়োদিনের দেখা পর্যন্ত পেল না। সেটা যেকোনো খেলনা সামগ্রীর জন্য চরম বিয়োগান্তক।

10:46 এই ব্যর্থতার দুটো ব্যখ্যা হতে পারে। প্রথমটা স্পষ্টতঃ প্রতীয়মান। আমি সেটা এখানে জোরেই বলবো- পসাম দেখতে খুবই পচা (হাসি) গুরুত্বের কথা এই যে বিলি পসামের গল্প্টা মার খেয়ে যায় যখন সেটা তুলনায় আসে টেডি বিয়ারের পেছনের গল্পের সাথে। মানবসভ্যতার গল্পের দিকে যদি তাকাই তখন দেখতে পাবো ভালুক আমাদের কাছে কিভাবে চিত্তাকর্ষক কারণ ভালুক আমাদের থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন। আমাদেরকে হুমকি ধামকি দেখিয়ে তারা আমাদের সমান্তরালেই বসবাস করেছে। মিসিসিপিতে রুজভেল্ট যখন শিকারে গেলেন এই ধারণাটা পাল্টে যায়। গাছের সাথে দড়ি বাঁধা সেই ভালুক হয়ে যায় সব ভালুকের প্রতিনিধি। সুতরাং এসব প্রাণীর বাঁচা কিংবা মরা সব মানুষের মর্জির ওপরে। ভালুকের অস্তিত্বের জন্য এই বার্তা খুবই অশুভ ইঙ্গিত। সাথে এটা আমাদের সম্পর্কে একটা অনিশ্চিত বার্তা দেয়। এমনকি একটা প্রাণীর অস্তিত্ব আমাদের উপর সর্বাংশে নির্ভর করে। এক শতাব্দী পরে আমরা সবাই ভাবতে বসেছি পরিবেশ বিপর্যয় নিয়ে। অস্বস্থিটা এখন আরো ভয়ানক। এখন আমরা যেই সময়ে আছি, বিজ্ঞানীরা যেটার নাম দিয়েছে- "আস্থার সাথে সংরক্ষণ" আমরা প্রকৃতিকে যেভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করেছি সেখান থেকে নিজেকে সারানোর ক্ষমতা প্রকৃতির নেই। বিপন্নপ্রায় প্রাণীরা কেবল তখনই রক্ষা পাবে যদি তাদের বিচরনের জায়গা থেকে আমরা একেবারেই সরে আসি। সেই জায়গায় আমরা হাত দিয়ে বসেছি সেখান থেকে হাত সরানোর উপায় নেই। সুতরাং আমাদের সামনে অনেক কাজ। আমরা শকুনদের শেখাচ্ছি যেন তারা বিদ্যুতের তারে না বসে। সারসকে শেখাচ্ছি যেন তারা শীতে দক্ষিণে যায় প্লেনের নিচে দিয়ে উড়ে। নকুলকে প্লেগ সিরাম খাওয়াচ্ছি। পিগমি খরগোশের বিচরণ খেয়াল করছি ড্রোন দিয়ে। সুতরাং প্রাণীদের দিক থেকে ঘৃণার দৃষ্টি সরিয়ে অনেক কয়টা প্রজাতির সংরক্ষণে আমরা ক্ষুদ্রপর্যায়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। তবে কোন প্রাণীগুলোর ওপরে আমাদের বেশি নজর? সেটা নির্ভর করছে কোন প্রাণী নিয়ে আমরা বিশ্বাসযোগ্য গল্প বলছি যাদের নিয়ে আমরা লেগে থাকবো বলে স্থির করেছি তারা। সংরক্ষণ করা আর গৃহপালিত করার মধ্যে সীমানা তাই ঘোলাটে।

12:55 সুতরাং আমি যে গল্প বলছি সেটা খুব বিষয়ভিত্তিক হতে পারে হতে পারে অযৌক্তিক কিংবা রোমাঞ্চভরা অথবা চাঞ্চল্যকর। অনেক সময় সত্যতার সাথে মিল না রেখেও কাজ এগোচ্ছে। তাই "আস্থার সাথে বসবাসের" যুগে এসব গল্পের একটা তাৎপর্য আছে। কারণ এখন আমরা একটা প্রাণীকে নিয়ে কিভাবে ভাবি সেটার ওপর তার অস্তিত্ব নির্ভর করে। এসব বরঞ্চ অনেক বেশি কার্যকর বাস্তুবিদ্যার বইতে যা লেখা আছে তার চাইতে। গল্প বলার এখন দাম আছে। আবেগের মূল্য আছে। আমাদের কল্পনা স্থান নিয়ে বাস্তুসংস্থানের শক্তি হিসেবে। হয়তো টেডি বিয়ার সেখানে কিছুটা ভূমিকা রেখেছে কারণ মিসিসিপিতে রুজভেল্ট আর ভালুকের উপাখ্যান একটা প্রতিকী বর্ণনা। সমাজের একটা বিশাল দায়িত্বের গোড়াপত্তন হয় সেখান থেকে। যদিও একাত্তর বছর সময় লেগেছে বিপন্নপ্রায় প্রাণীরক্ষা আইন পাস করাতে। আসলে সমাজের মূল্যবোধ শেখার ব্যাপারটা এই একটা দৃশ্যে অনেকটা ধরা পড়ে অসহায় ভালুকটা গাছের সাথে বাঁধা। আর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট তার প্রতি করুণা দেখালো। ধন্যবাদ। (হাততালি) (আঁকঃ ওয়েন্ডি ম্যাকনটন)